প্রবন্ধ
পশ্চিমা ড্রাগনদের যেখানে অশুভ হিসেবে চিত্রিত করা হয়, সেখানে চীনা ড্রাগনরা তাদের শক্তি এবং উদারতার জন্য সম্মানিত। অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন যে এই ওয়েব পেজের সাথে সংযুক্ত ব্লগগুলিতে অন্যান্য লাইসেন্সিং শর্তাবলী রয়েছে। ধর্ম (ল্যাটিন শব্দ Religio থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "শৃঙ্খলা," অথবা Relegere… প্রাচীন এশিয়ার নতুন সম্রাটরা বিপুল ক্ষমতা এবং দায়িত্ব পেয়েছিলেন… ড্রাগনদের গহনার অংশে দেখা যেত, জেড পাথরে তৈরি করা হতো, সিরামিকে আঁকা হতো, বার্নিশের পাত্রে তৈরি ও খচিত করা হতো, বাগান সাজানোর জন্য ইটে খোদাই করা হতো, বন্দুক ও বর্মে খোদাই করা হতো, এবং চিত্রকর্ম ও দেয়ালসজ্জায় চিত্রিত করা হতো। কিন সম্রাটদের সম্ভবত সবচেয়ে মহাকাব্যিক পোশাক ছিল, যার মধ্যে একটি পূর্ণ-দৈর্ঘ্যের সারকোট ছিল যা পাশে বাঁধা থাকত এবং মেঘ, পাথর ও সমুদ্রের উপর ভাসমান নয়টি পাঁচ-নখরযুক্ত ড্রাগন দ্বারা সজ্জিত ছিল, এবং এটি নতুন মহাবিশ্বের তিনটি অংশের প্রতীক ছিল।
প্রাচীন মানুষেরা হয়তো বাঘ, সাপ, ঈগল এবং কার্প মাছের মতো বিভিন্ন প্রাণীর বৈশিষ্ট্য একত্রিত করে ড্রাগনের ধারণা তৈরি করেছিল। একইভাবে, এর কাঁধটি সাপের মতো, আর থাবাগুলো বাঘের। উদাহরণস্বরূপ, এর মুখটি উটের মতো দেখতে, আর চোখগুলো যেন কোনো রাক্ষসের।
সুতরাং এর বিকাশ অতীতের জনপ্রিয় জেড ড্রাগনগুলোরও পূর্ববর্তী, যা ড্রাগনের প্রাচীনতম চিত্রায়ন হিসেবে অনুভূত হয়। নতুন সম্রাট, যাকে নতুন "ইডেনের বালক" ভাবা হতো, তিনি তার কর্তৃত্বের প্রতিফলন এবং তার শিকারদের রক্ষা করার প্রতীক হিসেবে এই নতুন ড্রাগনটিকে ব্যবহার করেছিলেন। এই সাম্প্রতিক অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে চীনা ড্রাগন সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত হয়েছিল এবং কীভাবে এটি বিশ্বজুড়ে চীনা সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ তৈরিতে অবদান রাখে। লোককথায় ড্রাগনদের সমুদ্র, আকাশ এবং পাতালপুরীর দয়ালু ও জ্ঞানী শাসক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
- এই ড্রাগনগুলোকে অত্যন্ত অধরা বলে মনে করা হতো এবং মানুষেরা তাদের খুব কমই দেখতে পেত, যদি না তারা নিষিদ্ধ কিছুর সন্ধানে মাটির গভীরে যেত।
- মঙ্গোলিয়ার অন্তহীন নীল আকাশের ড্রাগন থেকে শুরু করে থাইল্যান্ডের জলজ প্রাণী নাগ পর্যন্ত, এই ধরনের আঞ্চলিক ব্যাখ্যাগুলো এশিয়ার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
- যা, স্বীকার করতেই হয়, সঙ্গীতকলায় তাকে প্রতিভাবান বলা যায়।

রাশিচক্রের পোষা প্রাণীর সংগ্রহ। এর বিপরীতে, পাশ্চাত্য শিল্পকলায় ড্রাগনদের সাধারণত বিশাল বা ভয়ঙ্কর রূপে চিত্রিত করা হয়, যা নায়কদের জন্য বাধা হিসেবে কাজ করে এবং তাদের অবশ্যই তা অতিক্রম করতে হয়। আধুনিকতম ড্রাগনকে চীনা শিল্পকলা এবং স্থাপত্যে চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে এটি শক্তি, জ্ঞান এবং নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে একটি সাধারণ মোটিফ। তাদের গলায় মুক্তা বা বাস্কেটবলসহ চিত্রিত করা হতে পারে, যা সম্পদ এবং সাফল্যের প্রতীক।
সাধারণভাবে, চীনের জনগণ ড্রাগনকে সৌভাগ্যের প্রতীক এবং ধন-সম্পদের বাহক হিসেবে দেখত। চীনের পণ্ডিত ওয়েন ইদুও পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, এই পশুসদৃশ প্রতীকটি অন্যান্য অনেক জাতির রাজনৈতিক সম্পর্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, কারণ তাদেরও একটি ভিন্ন পশু টোটেম হিসেবে ছিল। কখন, কার দ্বারা এবং ঠিক কোন সত্যের উপর ভিত্তি করে ড্রাগনের ধারণাটি প্রথম তৈরি হয়েছিল তা জানা যায়নি, তবে কিছু ইতিহাসবিদ রংধনুর সাথে 'আকাশের সর্প'-এর একটি সংযোগের জোরালো পরামর্শ দেন, যা বৃষ্টিস্নানের সময় বা জলপ্রপাতে দেখা যায়।
পশ্চিমা বিশ্বে ড্রাগনদের প্রায়শই ডানাযুক্ত, অগ্নি-শ্বাস ফেলা দৈত্য হিসাবে চিত্রিত করা হলেও, চীনা ড্রাগন বা লুং আসলে শক্তি এবং মহত্ত্বের প্রতীক। প্রাচীন চীনা র goldbet লগইন মোবাইল াজবংশ এবং রাজ্যগুলির সম্রাটরা তাদের রাজ্যের সর্বোচ্চ এবং ঐশ্বরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতিনিধিত্ব করতে ড্রাগন ব্যবহার করতেন, যেখানে সম্রাজ্ঞীরা সাধারণত ফিনিক্সের প্রতীক ব্যবহার করতেন। যেহেতু তাদের জলের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হত, তাই শাসনের ক্ষেত্রটি জল সম্পর্কিত সবকিছু সুরক্ষিত করত।

প্রাচীন চীনের গল্প ও কাহিনীতে আবির্ভূত হওয়া প্রথম প্রাণীগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ড্রাগন। একে প্রায়শই একটি বিশাল ও ক্ষিপ্র জন্তু হিসেবে চিত্রিত করা হয়, যা হয় জলাশয়ে অথবা মেঘে বাস করে। তবে, ড্রাগনরা প্রাচ্যেরই প্রাণী ছিল এবং তাদের আদি নিবাস বলেও বিশ্বাস করা হতো, যেখানে তাদের আকাশে দেখা যেত। নিঃসন্দেহে, এই পর্যায়ে শিল্পকলার প্রতীকটি কোনো স্বতন্ত্র রূপ লাভ করেনি, কিন্তু পশুসুলভ বৈশিষ্ট্যগুলোর মিশ্রণ এটাই প্রমাণ করে যে, কেউ ড্রাগনদেরকে প্রতিটি চরিত্রের শক্তির এক ধরনের মূর্ত প্রতীক হিসেবে দেখত। উদাহরণস্বরূপ, সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত ড্রাগনের আকৃতিটি হংশান যুগের (আনুমানিক ৪৭০০ থেকে ২৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) একটি জেড পাথরের খণ্ডের উপর থেকে পাওয়া একটি কুণ্ডলী পাকানো, সাপের মতো আকৃতি থেকে উদ্ভূত।
নতুন ড্রাগন পোশাক — যাকে লংপাও (龙袍) বলা হয় — হলো বেগুনি শক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ পোশাক, যা শুধুমাত্র সম্রাট এবং রাজপরিবারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা ব্যবহার করতেন। এর যৌগিক নকশা, যা অন্য নয়টি প্রাণী থেকে ধার করা, বিশুদ্ধ শক্তি এবং মহাজাগতিক দক্ষতার সেরা সংশ্লেষণ হিসাবে ড্রাগনের ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে। এটিকে সাধারণত একটি দীর্ঘ, সর্পিল আকৃতি হিসাবে চিত্রিত করা হয় যার পাঁচটি নখরযুক্ত পা, একটি আঁশযুক্ত শরীর, শিং-এর মতো শিং এবং একটি চলমান কেশর রয়েছে। জলজ প্রাণীরা যেমন আকাশে উড়ে যায়, তেমনি ড্রাগনরা পৃথিবী এবং আকাশকে আঁকড়ে ধরে, যা একতা এবং ভারসাম্যের প্রতীক। চীনাদের মধ্যে, নীল এবং সবুজ রঙ হলো বৈশিষ্ট্য, স্বাস্থ্য, আরোগ্য, প্রশান্তি এবং অগ্রগতির প্রতীক।
নবীন কিউলং ড্রাগন বা শিংওয়ালা ড্রাগনদের সমস্ত ড্রাগনের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত, ড্রাগনরা একাধিক ইতিবাচক তাৎপর্য বহনকারী অপরিহার্য প্রতীক হিসেবে কাজ করে আসছে। নবীন ড্রাগন রাজা, বা ড্রাগন যিশু, বহু ড্রাগনের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। ঐতিহ্যগতভাবে, ড্রাগন বর্ষে, যেমন ১৯৮৮, ২০০০ এবং ২০১২ সালে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা ভালো বোধ করেন এবং সফল হন।
চীনা জনগণের অন্তরে ড্রাগনের রূপ ঠিক কী: প্রতীকবাদ ও জীবন
আপনি যদি বেগুনি রঙের সতেজ ও উজ্জ্বল আভা চান, তবে এর পরিবর্তে ড্রাগনের আঁশ বা পাথরের নকশা যোগ করার কথা ভাবতে পারেন। ড্রাগন ট্যাটুর রঙের বিকল্পগুলো বেশ পুরোনো ধাঁচের, যা নকশা চূড়ান্ত করার আগে বিবেচনা করার মতো। যদিও এগুলো চমৎকার, তবে এটা মনে রাখা দরকার যে কিছু নির্দিষ্ট দেশে তিন-নখওয়ালা ড্রাগন গ্যাংস্টার প্রতীকের সাথে জড়িত। ট্যাটু পরিষ্কার করার জন্য QV Gentle Wash সবচেয়ে ভালো, কারণ এটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল এবং বেদনাদায়ক শরীরের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
আপনার নিজের ড্রাগন চীনা রাশিচক্রের ১২ মাস

বাস্তব জীবনের প্রজাতি হিসেবে পরিচিত অসংখ্য পোষা প্রাণীর মতো নয়, চীনা ড্রাগন হলো বিভিন্ন প্রাণীর এক চমৎকার সংমিশ্রণ, যার প্রতিটিই গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। স্বর্গীয় শক্তির প্রতীক ইংলং বা বেগুনি বিদ্যুতের প্রতীক লাল ড্রাগনের তুলনায়, জিয়াওলং আরও বেশি বন্য ও উন্মত্ত, যা প্রকৃতির অকৃত্রিম এবং অনিয়ন্ত্রিত শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এটিকে চীনা রাশিচক্র এবং পৌরাণিক জীবনধারার সমস্ত দেব-দেবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ড্রাগন বিভিন্ন জাতির টোটেম প্রাণী হিসেবে উদ্ভূত হয়েছিল, যা ঐক্য এবং শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এর সুপরিচিত বৈশিষ্ট্যগুলো হলো শিং, চুল বা গোঁফ, পা, পাঁচ ফুট উচ্চতা, স্পষ্ট নখর এবং বিশাল চোখ। বলা হয় যে প্রতিটি চীনা ড্রাগন নয়টি প্রাণীকে একত্রিত করে, যা তাদের বর্ণনামূলক জীবনধারাকে প্রতিফলিত করে, এটি কোনো প্রচলিত প্রথা নয়।